কোরান পড়ে-ই আমি 'মুক্তধর্ম' হয়েছি !
ছোটো বেলায় মায়ের তাগিদে এবং শিক্ষকতায় 'ছেপারা' পড়তে শুরু করি, তবে তা বড়োই প্রাণহীন মনে হতো। বাংলা বইয়ের ছড়া-কবিতার মতো প্রাণবন্ত নয়। যার কোনো মানেই বুঝি না, যাতে কোনো রসবোধ নেই তা কি পড়তে ভালো লাগে ?
মায়ের সাথে নামাজের আসনে 'ওঠবস' করাটার কোনো মানেই খুঁজে পেতাম না। এভাবে ওঠবস করার মধ্যে 'আল্লাহ'র খুশী হওয়ার যে কি উপাদান আছে তা বুঝতে পারতাম না। বাড়ীর পাশে দুর্গা পূজা হতো সেখানে একটা উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতো, 'বাতাসা' খেতে দিতো, ভালোই লাগতো। কিন্তু মাটির প্রতিমার সামনে সবাই যখন নতজানু হয়ে প্রণাম করতো, ঠাকুর মন্ত্র পাঠ করতো তখন দুর্বোধ্য লাগতো।
একখানা নামাজ শিক্ষা বই কিনে দেয়া হলো, সুরা মুখস্থ করতে হবে। বেশ পড়ার উৎসাহ নিয়ে পড়তে বসলাম। বাংলায় উচ্চারণ দেখে পড়ছি, সাথে সুরার বাংলা অর্থ। একজায়গায় চোখ আটকে গেল, 'সুরা লাহাব'। যার অর্থ এরকম যে, "আবু লাহাবের হাত দুটো ধ্বংস হোক", ইত্যাদি ইত্যাদি। বেশ আশ্চর্য হলাম সেই কবে 'আবু লাহাব' মারা গেছে, আর এখনও বলা হয় "লাহাবের হাত দু'টো ধ্বংস হোক", কেমন যেন একটা খটকা লেগে গেল। তাছাড়া একজন মানুষের হাত দু'টো ধ্বংস হলে আল্লাহ খুশী হবেন কেন ?
খুৃৃঁজতে খুঁজতে ঘরে বাবার একখানা বাংলা কোরান পেলাম। কোরান পড়ে ভীষণ ভাবে ভয় পেয়ে গেলাম, সাথে সাথে আশ্চর্যও হলাম, 'আল্লাহ নিজে সরাসরি কথা বলছে!" আল্লাহ মানুষের সাথে কথা বলেন ! আমি তো নিজে শুনিনি! তাছাড়া কি সব ভয় ধরানো কথাবার্তা, কঠিন কঠিন সব শাস্তি !
আস্তে আস্তে বুঝলাম একেক ধর্ম একেক কথা বলে, ধর্ম আর বিজ্ঞানে কতো অমিল! বিজ্ঞান বুঝতে পারি কিন্তু ধর্ম বুঝতে পারি না। কোনটাকে সত্য মানবো ? হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ইহুদি ইত্যাদি ইত্যাদি কতোশত ধর্ম আর অপর দিকে বিজ্ঞান ! কারো সাথে কারো কোনো মিল-ই নেই !
সেই ছোট্ট বেলায় পড়া কোরানের আয়াত "আবু লাহাবের হাত দুটো ধ্বংস হোক - - -।" আমার চেতনা এবং বিশ্বাসে একটা কঠিন ঘা দিয়ে গেছে। যে আল্লাহ মহান, দয়ালু, সর্বশক্তিমান! তার চাওয়া এতো ক্ষুদ্র, এতো অর্থহীন, এতো হাস্যকর !!
ধর্ম শব্দটা আমার কাছে হাস্যকর হয়ে-ই রইলো ।।
(Shams Jewel)

Comments
Post a Comment